রবিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০১১

বাঁচাও...

......সাইন.জুবায়ের



















গোসলের সময় আজকাল প্রায়ই
সর্বাঙ্গের বসন যখন খোলি, মনে হয়
আমি না, এক জীর্ণশীর্ণ কঙ্কাল
আমারি সম্মুখে দাঁড়িয়ে।
হাত আর হাত হয়ে নাই পাঁচখানা হাঁড়ের মিলন,
আস্তে করে সড়িয়ে এনে বুক যেখানে ছিল
পাঁজরে কয়টা হাঁড় আছে, ছোঁয়ে ছোঁয়ে গুনে বলে দেয়...।
মেরূদন্ডটা বাঁকা হয়ে গেছে
যতটা হওয়ার কথা ছিলনা এই বয়সে।
বুক যেখানটায় ছিল
এখন পাঁজরের খাঁচা, আর এর ভিতরে খোঁচিয়ে খোঁচিয়ে
একেবারেই খোঁজে পাইনা কোথায় ছিল হৃদয়ের অস্তিত্ব...
আজ আর অনুভবেও আসেনা।
আর মগজটাকে ধরতে গেলেই
ফোঁস করে উঠে শিকঁড়-বাঁকড়ে জড়ানো লম্বাটে
কেশগুলো যেন- অযস্র পাইথন সাঁপ...
অভূক্ত থেকে থেকে সিল্কি হারিয়ে
এখনি ছোবল দিবে ফোঁস! ফোঁস! এমনি শব্দে করে বিলাপ।
এত হাড্ডিসারের আস্তাকূঁড়ে মনটা কি করে থাকে!
ইচ্ছেকে বেমালুম ভুলিয়ে-ভালিয়ে সড়িয়ে আনে হাত,
হাত! না-কি হাতের কঙ্কাল!
চামঢ়ার অস্থিত্বে বোলায়, টের পায়না
জঠরের উপরে হাতায়, বুলিয়ে কয়
এখানেই ছিল, এখানটায় পেট!
নৈতিকতার লেশমাত্র ছিলনা যার
পেট পোরে চাইতো ভাত!
এত খাই খাই করে নিজেকে একি করেছিস!
খেতে খেতে সর্বাংগই খেয়েছিস?!
কোথায় কোন অঙ্গ ছিল, পাওয়া যাচ্ছেনা খোঁজে...!
শুধু মনের অস্তিত্বটাই অবশেষ হয়ে আছে বেঁচে।
একগাদা হাঁড়ের ঝুপড়ি মাচায় কটকট-পটপট-মটমট শব্দে
চিল্লায়ে কয়ঃ বাঁচাও! বাঁচাও!! বাঁচাও!!!
এভাবে বাঁচা ভিষম দায়?


(সাইন.জুবায়ের, ১৫.০১.২০১১, ০৮.২৬পি.এম, পিংকসিটি)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন