রবিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০১১

প্রজন্ম আনবার চাষাবাদ

.........সাইন.জুবায়ের



















নেংটা, গয়নাহীন কান-গলায়
ঠোঁটের ছোঁয়া দিয়ে
সেকেন্ড করে করে মাড়ায়
প্রজন্ম আনার অভিপ্রায়ে...

শত সহস্র চুমে বেমালুম
শিহরণ জাগানিয়া ভাপ
শারীরি উন্মাদনা ঘামছে চরম,
ওরে বাপরে বাপ...!

অল্প পরেই হতচকিয়ে
এযে পাহাড় সমগ্র
চূড়ায় আরোহী ধেয়ে ধেয়ে
জিবের স্বাদে অগ্র...

বুনো পাহাড়, দেখতে আপেল
স্বাধ শুধুই মাদকতা
বুঝিনা বুঝি অথবা দুধেল
চুম্বন চাষনেই সফলতা...

অনাগত ভবিষ্যতে সন্তানের
স্তুপাকার খাদ্য ভান্ডার
যতো রাখো, তবুও শেষের
কিছুটা আমার অধিকার...

হঠাত পেড়িয়ে তিন কদম
অসম পেটে নাভী
ব্যস্ত ভিষম লাগাতে মলম
অপূরণীয় রাখিনি দাবি...

অল্প দূরের গিরিপথ এসেই
ঝুঁপঝাঁড় জঙ্গলি জমি
খুব বেশিনয় ইঞ্চি দুই
এখনি হবে নিরামি...

অংগখানি সূঁতোয় বেঁধে
জিবের কোনে সেলাই
উন্মাদনাটুকু গেঁথে গেঁথে
জিবে চেটেপুটে যাই...

চাটছে বেড়াল আনমনা স্বাধে
কইমাছ চচ্চরি ভাজা
কোনটা আগে সড়িয়ে নিতে
লজ্জায় ঠোঁটে ভেজা...

এইতো এইখানটায় ঠিক সরো
পিচ্ছিল মাদক গন্ধে
চাটিতে চাটিতে উধ্বার করো
কাব্য জুড়াও রন্দ্রে...

অগুনিত সময় অকথিত কাব্য
মুক হয়েও বলে
আঁকিবুঁকি ইশারায় জমির নাব্য
ইঞ্চি ভূমিতে মিলে...

জমির মালিক কাঁপতে কাঁপতে
হাত দুটিতে সড়িয়ে
শিহরণের একেক পড়তে পড়তে
ওহ!আহ! শব্দ কয়ে...

ওলো জমির আগাছা মাড়িয়ে
কৃষান ধারায় ফলা
কিষানি কখনো বলে কুঁকিয়ে
কতো চাষিছ কলা...!

ঠোঁটে মুখে জিবে চোটে
সইতে না আর পারি
ওগো কৃষক নিচ্ছ লোটে
কত্ত সহজে তাড়াতাড়ি...

আমার রক্ত করবে সনাক্ত
আসবে এপথ ধরে
আমি নামাস্ত, করছি পোক্ত
ভবিষ্য সন্তান ঘরে...


(সাইন.জুবায়ের, ০৬.১২.২০১০, ০৬.০৬এ.এম, পিঙ্কসিটি)

উষ্ণতা চাই…

......সাইন.জুবায়ের























পৌসের শীতে ঠক-ঠকিয়ে
কম্বলের নিচে কেঁপেছি,
বিবাহিত হলে শরীর জড়িয়ে
উষ্ণতা পেতাম ভেবেছি...

পৌস পেড়ুলো মাঘ এসেছে
কাঁপছি শীতে ঠকঠক,
কনের বাবা আটকে রেখেছে?
সঙ্গিনী জীবনের অর্ধেক!

শীতকাঁপানো একেকটা দিন
রাতে কষ্ট লাগে,
হে সৃষ্টিকর্তা! সহায় হোন!
পাঠিয়ে দিননা আগে...।



                                                                  www.facebook.com/POET.SZ
সাইন.জুবায়ের, January 12 at 3:00am, পিংকসিটি

জঠরের জ্বালা

......সাইন.জুবায়ের


জঠরের জ্বালা
সে যে কত ভয়াবহ হতে পারে,
আজকাল আমি প্রায়শঃই
টের পাই...
এ জ্বালা মিটানোর সব যোগ্যতাই
আছে আমার, সামান্য যেটুকু বাকি
একজনা আয়োজক পাই নাই,
শুধু তাই
জঠরের অধিকারের কাছে সঁপে দেই
অন্য যোগানে পিঁয়াজ কাটার কান্নায়...।
একমোঠু ভাত,
দুটু পিঁয়াজ কুঁচির সাথে লঙ্কা টিপে
হয়তো ডাল ডিমের সাথে
ভুলেই গিয়েছি বাকি সব স্বাধ
মায়ের রেসিপির জন্মান্তরের আহ্লাদ...
জীবনের মাঝপথ পেড়িয়ে
জঠরের জ্বালা বিভূঁয়ে
এমনি জীবনীপাত।

অনেক ন্যায্য অধিকার থেকে
আমি নিভৃত রেখেছি আমাকে
কঠিন যতো অধ্যাবসায়ে, বছরের পর বছরে
কিন্তু
দুই তিন অথবা চতুর্থবেলার পরে
কুকঁড়ে উঠা তীব্র ব্যাথা জঠরে
মানাতে পারিনা হায়,
দুনিয়ার সবটুকু অর্জন বিসর্জনে মিলিয়ে যেতে চায়
একমোঠু অন্নের বিনিময়!
আর তখনি হাপুস হুপোস ছুটি রান্নাঘরের দরজায়
চোখের জলে
কপোল গলে
পাতিলে মিলে, লবন দিতে ভুলে যাই,
চামচ মুখে
জিবে চেখে, সন্দেহ ফুরাই
লবন দিয়েছিলাম না দেই নাই?
আর তক্ষনি ভাবি, আমার দুনিয়ায়
এই অধিকার পূরনে আমি বড় অসহায়।


সাইন.জুবায়ের December 4, 2010 at 10:28am পিংকসিটি

কনে...

......সাইন.জুবায়ের

ঘোমটা দিয়ে আসবে যেদিন
মেহেদী হাতে রাঙ্গিয়ে
মনটা সঁপে রাঙ্গাবো দুজন
প্রেমের স্পর্শ ছোঁয়ায়ে...

সোনার কাঠি রূপার কাঠি
চন্দ্রা লোপার মুখে
পরম আহ্লাদে লোটা-লুটি
ভাসাবো তরী সুখে...

আলতো ধরে ঘোমটা ছেড়ে
কাঁপবে তোমার ঠোঁটে
দিলাম সঁপে প্রাণ ভ্রমরে
কলিয় গোলাপ ফোটে...!

সাইন.জুবায়ের, ১৬/০১/২০১১, ১২.২৪এ.এম, পিংকসিটি

বাঁচাও...

......সাইন.জুবায়ের



















গোসলের সময় আজকাল প্রায়ই
সর্বাঙ্গের বসন যখন খোলি, মনে হয়
আমি না, এক জীর্ণশীর্ণ কঙ্কাল
আমারি সম্মুখে দাঁড়িয়ে।
হাত আর হাত হয়ে নাই পাঁচখানা হাঁড়ের মিলন,
আস্তে করে সড়িয়ে এনে বুক যেখানে ছিল
পাঁজরে কয়টা হাঁড় আছে, ছোঁয়ে ছোঁয়ে গুনে বলে দেয়...।
মেরূদন্ডটা বাঁকা হয়ে গেছে
যতটা হওয়ার কথা ছিলনা এই বয়সে।
বুক যেখানটায় ছিল
এখন পাঁজরের খাঁচা, আর এর ভিতরে খোঁচিয়ে খোঁচিয়ে
একেবারেই খোঁজে পাইনা কোথায় ছিল হৃদয়ের অস্তিত্ব...
আজ আর অনুভবেও আসেনা।
আর মগজটাকে ধরতে গেলেই
ফোঁস করে উঠে শিকঁড়-বাঁকড়ে জড়ানো লম্বাটে
কেশগুলো যেন- অযস্র পাইথন সাঁপ...
অভূক্ত থেকে থেকে সিল্কি হারিয়ে
এখনি ছোবল দিবে ফোঁস! ফোঁস! এমনি শব্দে করে বিলাপ।
এত হাড্ডিসারের আস্তাকূঁড়ে মনটা কি করে থাকে!
ইচ্ছেকে বেমালুম ভুলিয়ে-ভালিয়ে সড়িয়ে আনে হাত,
হাত! না-কি হাতের কঙ্কাল!
চামঢ়ার অস্থিত্বে বোলায়, টের পায়না
জঠরের উপরে হাতায়, বুলিয়ে কয়
এখানেই ছিল, এখানটায় পেট!
নৈতিকতার লেশমাত্র ছিলনা যার
পেট পোরে চাইতো ভাত!
এত খাই খাই করে নিজেকে একি করেছিস!
খেতে খেতে সর্বাংগই খেয়েছিস?!
কোথায় কোন অঙ্গ ছিল, পাওয়া যাচ্ছেনা খোঁজে...!
শুধু মনের অস্তিত্বটাই অবশেষ হয়ে আছে বেঁচে।
একগাদা হাঁড়ের ঝুপড়ি মাচায় কটকট-পটপট-মটমট শব্দে
চিল্লায়ে কয়ঃ বাঁচাও! বাঁচাও!! বাঁচাও!!!
এভাবে বাঁচা ভিষম দায়?


(সাইন.জুবায়ের, ১৫.০১.২০১১, ০৮.২৬পি.এম, পিংকসিটি)

বৃহস্পতিবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০১১

কান্নার একফোটা জল...

......সাইন.জুবায়ের


কান্নার একফোটা জল মানে
তেত্রিশ ফোটা রক্ত বিন্দু।
যে জন জমায় কয়েক গ্লাস জল
সহস্র থলে রক্ত অথবা
অযস্র অনন্ত...
তোমরা যারা রক্ত বুঝনা
ঝরছে যে জল তাও বুঝনা
বুঝতে চাওনা তাই বুঝনা
আহাঃ
পূর্ণিমার চাঁদে কি দেখে সুকান্ত!
যে কেঁদে যায় সেই জানে
যাকে কষ্ট দাও সেই মানে
কিসের অসুবিধায় কান্না আনে,
ক’ফোটা রক্তে একফোটা জল বলতে পারে বিজ্ঞানে?
কাঁদছে দেখো একজনা তরূণী,
জীবন যুদ্ধে নিদান পরিশ্রান্ত...


(বিশিষ্ট (গল্প ও উপন্যাস) লেখিকা রোমানা বৈশাখীকে উতসর্গিত।)
(সাইন.জুবায়ের, পিঙ্কসিটি, ১৩।০১।২০১১, রাত ০৩,১৪ মিঃ)

সোমবার, ৩ জানুয়ারি, ২০১১

রংগীন ব্যথার কষ্ট…

.......সাইন.জুবায়ের














চোখের কোনে প্রতিবিম্বে, শ্রাবণ মেঘের আকাশ
মেঘ ঘূড় ঘূড় মেঘ ঘূড় ঘূড়, দমকা মনের বাতাস
মনের ঘরের চৌচালাটা, উড়ছে খুঁটিনাটি
কেউ জানেনা ভাংছে আজি মনের বসতবাটি...

তপ্ত মরুয় হারিয়ে একা তৃষ্ণায় বুকের ছাতি
কেউ খোঁজেনা কষ্ট রেখায় কোথায় ব্যথা অতি
ব্যথা বুঝ? কষ্ট বুঝ? যন্ত্রণা বুঝতে যদি,
আংগুল চেপে পোড়াতে বারুদ দিয়াশলায়ের কাঠি...!

আমার ব্যথার রংগীন কষ্টে উপহাস আজ অজস্র
তেত্রিশফোটা রক্তের বদলে ঝড়ে একফোটা অস্রু
ব্যথা ও কষ্টের ঊর্ধে উঠলে শূণ্য চারপাশ অতি
কেউ না জানুক যাচ্ছি পোড়ে কষ্ট কোথায় কোনটি...


(সাইন.জুবায়ের, ০৯.০৮.২০১০, ০৬.১৯পিএম, পিঙ্কসিটি)